২০২৫-২৬ শস্যবর্ষ

বিশ্বব্যাপী রেকর্ড কফি উৎপাদনের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ শস্যবর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) রেকর্ড পরিমাণ কফি উৎপাদন হতে পারে।

বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ শস্যবর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) রেকর্ড পরিমাণ কফি উৎপাদন হতে পারে। এ সময় কৃষিপণ্যটির মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ১ কোটি ৭ লাখ টনে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইএসডিএ)। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করবে রোবাস্তা জাতের কফি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শস্যবর্ষে বৈশ্বিক কফি উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৪৩ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) বেড়ে রেকর্ড ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ব্যাগে (১ কোটি ৭ লাখ টন) পৌঁছতে পারে। এ সময় ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন পুনরুদ্ধার ও ইথিওপিয়ায় রেকর্ড উৎপাদন হতে পারে। তবে আগামী মৌসুমে বিশ্বব্যাপী অ্যারাবিকা কফি উৎপাদন ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৫৮ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এ সময় রোবাস্তা কফির উৎপাদন বাড়তে পারে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৪৯ লাখ টনে।

ইউএসডিএ প্রতিবেদনে আরো জানায়, আগামী মৌসুমে বৈশ্বিক কফি রফতানি ৪২ হাজার টন বেড়ে ৭৩ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ সময় ভিয়েতনাম, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার সরবরাহ হ্রাসের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

আগামী মৌসুমে ব্রাজিলে কফি উৎপাদন ১৮ হাজার টন বেড়ে ৩৯ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এ সময় রোবাস্তা কফি উৎপাদন দাঁড়াবে ১৪ লাখ টনে, যা আগের তুলনায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টন বেশি। দেশটির এসপিরিতো সান্তো ও বাহিয়া প্রদেশে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে ফলন ভালো হয়েছে। তবে মিনাস জেরাইস ও সাও পাওলোয় খরা ও তাপপ্রবাহে অ্যারাবিকা কফি উৎপাদন ১ লাখ ৬৮ হাজার টন কমে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমে যেতে পারে।

এদিকে আগামী মৌসুমে শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল থেকে কফি রফতানি ৬ শতাংশ কমে ২৩ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। কারণ দামের ঊর্ধ্বমুখিতার ফলে আমদানিকারক দেশগুলো নতুন মজুদ বৃদ্ধিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

বিশ্বে কফি উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম অন্যতম। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৯ লাখ টনে উন্নীত হবে। এ সময় অনুকূল আবহাওয়া ফলন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশটি থেকে কফি বিন রফতানি বর্তমান মৌসুমের ১৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ১৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।

ইউএসডিএর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ শস্যবর্ষে ইন্দোনেশিয়ায় কফি উৎপাদন ৬ লাখ ৪২ হাজার টন থেকে বেড়ে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টনে পৌঁছবে। অনুকূল আবহাওয়ায় দক্ষিণ সুমাত্রা ও জাভায় রোবাস্তা উৎপাদন ৫ লাখ ৮৮ হাজার টনে উন্নীত হবে। অ্যারাবিকা কফির উৎপাদনও কিছুটা বেড়ে ৮৭ হাজার টনে পৌঁছতে পারে। আগামী শস্যবর্ষে দেশটি থেকে কফি রফতানি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে পৌঁছবে।

আরও